৪ বছরে পায়ে হেঁটে ২৮ দেশ পাড়ি দিয়েও হজ্বের সৌভাগ্য লাভ করেননি মরোক্কোর যুবক

চার বছর পায়ে হেঁটে ও সাইকেল চালিয়ে ২৮ দেশ পাড়ি দিয়ে অবশেষে পবিত্র হজ করতে মক্কায় এসে পৌঁছেছেন মরক্কোর যুবক গোলাম ইয়াসিন। কিন্তু এতোকিছুর
পরও করোনার কারণে হজ্ব পালন করার সুযোগ পাননি তিনি।

সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে গোলাম ইয়াসিন বলেন, “আমি পবিত্র হজ্ব পালন করার জন্য চার বছর যাবৎ পায়ে হেঁটে ও সাইকেল চালিয়ে প্রায় সাত মাস আগে সৌদি আরবে পৌঁছেছি।”

তিনি গত ২০১৭ সালের জানুয়ারী মাসে তার যাত্রা শুরু করেন। ২৮ টি দেশ পাড়ি দিয়ে অবশেষে তিনি সৌদিতে পৌঁছেন। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস! করোনার কারণে তিনি এ বছর পবিত্র হজ্ব পালন করার সুযোগ পাননি। সৌদিতে আসার সময় ইয়াসিন তার সাইকেলে করে ২৬ কেজি ওজনের একটি ব্যাগও সঙ্গে এনেছেন। এর মধ্যেই তার রান্না ও রাত কাটানোর তাঁবু ছিল। সৌদিতে এসে আভা এলাকায় তাঁবু টাঙিয়ে রাতযাপন করতেন তিনি।

সৌদি মিডিয়া ব্যক্তিত্ব আব্দুর রহমান আল-মুতাইরি ইয়াসিনকে স্বাগত জানাতে এবং তাঁর এ আশ্চর্য গল্পটি জানতে আভা শহরে ভ্রমণ করেন যেখানে মরোক্কোর ওই ভ্রমণকারী অবস্থান করছেন।

আব্দুর রহমান আভায় পৌঁছে মরোক্কোর যুবক ইয়াসিনকে বলেন, “আমরা আপনার সাথে দেখা করতে কাসিম থেকে পুরো পথে এসেছি। আপনি আমাদের অতিথি এবং এ দেশের প্রতিটি বাড়ির অতিথি। আমরা আপনাকে পেয়ে খুবই আনন্দিত।”

ইয়াসিন বলেন, “সৌদি কর্তৃপক্ষ আমাদের স্বাস্থ্য রক্ষায় এই বছর হাজ্বীদের সংখ্যা সীমিত করেছে তাই আমি দক্ষিণাঞ্চলে অবস্থান করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। কারণ এ এলাকার আবহাওয়া অনেক সুন্দর। অঞ্চলটি এতো সুন্দর হবে সেটা আমি আশা করিনি।”

ইয়াসিন আরো বলেন, “আমি হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের অনুসরণ করে মক্কা থেকে মদীনায় পায়ে হেঁটে ভ্রমণ করেছি। কিন্তু আমি যখনি মদীনায় পৌঁছলাম তখনি সাথে সাথে করোনা মহামারীটিও সেখানে পৌঁছে গেলো। তবে আমি এ দেশে প্রতিদিন উষ্ণ আতিথেয়তার অভিজ্ঞতা লাভ করছি।”

সূত্র: আরব নিউজ

আরও সংবাদ

দশ হাজার হাজি যেভাবে জড়ো হয়েছেন আরাফার ময়দানে

আওয়ার ইসলাম: করোনা ভাইরাসের কারণে এবার ভিন্ন এক বাস্তবতায় সীমিত সংখ্যক মুসলি­র অংশগ্রহণে হজ পালিত হচ্ছে। মূল আনুষ্ঠানিকতা পালনে ফজরের নামাজ আদায় করে মিনা থেকে আরাফাত ময়দানে জড়ো হয়েছেন হাজীরা।

দুপুরে, আরাফাতে মসজিদে নিমরাহ থেকে হজের খুতবা দেবেন সৌদি আরবের শায়খ আব্দুল্লাহ ইবনে সুলাইমান আল-মানিয়া। এবার হজে এক হাজার সৌদিবাসীর অংশ নেবার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত ১০ হাজার মুসলি­ অংশ নিচ্ছেন।

হজের আনুষ্ঠানিকতার সবই আছে, কেবল নেই লাখো মুসলি­’র অংশগ্রহণ। সৌদি আরবের ঐতিহাসিক আরাফাত ময়দানে লাব্বাইক ধ্বনিতে নিজের উপস্থিতি জানান দিচ্ছেন মুসলি­রা।

করোনাকালে স্বাস্থ্যবিধি মেনে সীমিত সংখ্যক মুসলি­ এবার হজ পালন করছেন। ফজরের নামাজ আদায় করে তারা মিনা থেকে আরাফাতের ময়দানে জড়ো হন। আরাফাত ময়দানে মসজিদে নিমরাহ থেকে মুসলিম উম্মাহর উদ্দেশ্যে হজের খুতবা দেবেন সৌদি আরবের প্রবীণ শায়খ ডক্টর আব্দুেহ ইবনে সুলাইমান আল-মানিয়া। এবারই প্রথম আরবি ভাষায় দেয়া খুতবা বাংলাসহ ১০টি ভাষায় অনুবাদ করে প্রচার হবে।

খুতবার পর এখানেই এক আজানে জোহর ও আসরের নামাজ আদায় করবেন হাজিরা। সুর্যাস্ত পর্যন্ত সেখানে অবস্থান করে মুজদালিফায় গিয়ে আবারো এক আজানে মাগরিব ও এশার নামাজ আদায় করবেন তারা। রাতে অবস্থান করবেন মুজদালিফার খোলা মাঠে। পরদিন শয়তানের উদ্দেশ্যে পাথর ছুড়ে মারবেন ও সাধ্যমত পশু কোরবানী করবেন। এজন্য আগে থেকে জীবাণুমুক্ত প্যাকেটজাত পাথর দেয়া হবে হাজীদের।

করোনার কারণে এবার কেবল সৌদি আরবে বসবাসকারী ১০ হাজার মুসলি­ হজ পালন করার অনুমতি পেয়েছেন। হাজিদের মানতে হচ্ছে বিশেষ স্বাস্থ্য নির্দেশিকা। এরপর হাজিরা ২০ জনের গ্র“প করে মক্কায় ফিরে কাবা শরীফ ‘তাওয়াফ’ এবং সাফা ও মারওয়ায় ‘সায়ী’ করে আবারও ফিরে যাবেন মিনায়। ১১ জিলহজ আরো কিছু আহকাম পালন এবং কাবা শরীফে বিদায়ী তাওয়াফের মাধ্যমে সম্পন্ন হবে পবিত্র হজের সব আহকাম-আরকান।

এদিকে, ইসলামী শরীয়া অনুযায়ি জিলহজ মাসের নবম তারিখে বদলানো হয়েছে কাবা শরীফের গিলাফ। কাবা শরীফ ও মসজিদে হারামাইনের কাস্টোডিয়ান সৌদি বাদশাহর প্রতিনিধিরা কাবা শরীফের গিলাফ পরিবর্তনের অংশ নেন।