বাসের নিচে প্রাইভেটকার, কেটে বের করা হলো ৫ জনের লাশ !

সিলেটে বাস ও প্রাইভেটকারের সংঘর্ষে পাঁচজন নিহত সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলায় যাত্রীবাহী বাস ও প্রাইভেটকারের মুখোমুখি সংঘর্ষে পাঁচজন নিহত হয়েছেন। এ সময় একজন গুরুতর আহত হয়েছেন। তাকে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

শুক্রবার (৩১ জুলাই) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ওসমানীনগর উপজেলার লামা তাজপুরের তানপুর এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। হতাহতরা প্রাইভেটকারের যাত্রী। তবে তাৎক্ষণিকভাবে তাদের পরিচয় জানা যায়নি।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে তামাবিল হাইওয়ে পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাইনুল ইসলাম বলেন, ঢাকা থেকে সিলেটগামী প্রাইভেটকারের সঙ্গে কুমিল্লা ট্রান্সপোর্ট বাসের সংঘর্ষে পাঁচজন নিহত হয়েছেন। একজন গুরুতর আহত হয়েছেন। নিহতরা প্রাইভেটকারের যাত্রী। তারা ঢাকা থেকে সিলেটে গ্রামের বাড়ি ফিরছিলেন।

আহত ব্যক্তিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বাসটি জব্দ করা হয়েছে। স্থানীয়দের বরাত দিয়ে ওসি মাইনুল ইসলাম বলেন, সকাল সাড়ে ৭টার দিকে সিলেট থেকে কুমিল্লার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাওয়া কুমিল্লা ট্রান্সপোর্টের একটি বাস ও ঢাকা থেকে সিলেটগামী একটি প্রাইভেটকারের লামা তাজপুরের তানপুর এলাকায় সংঘর্ষ হয়।

এ সময় বাসের নিচে ঢুকে যায় প্রাইভেটকার। সঙ্গে সঙ্গে প্রাইভেটকার দুমড়েমুচড়ে ঘটনাস্থলেই প্রাইভেটকারের পাঁচ যাত্রী নিহত ও একজন আহত হন। গুরুতর আহত অবস্থায় ওই ব্যক্তিকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি এবং নিহতদের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে।

তিনি বলেন, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে হাইওয়ে পুলিশ ও ওসমানীনগর ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে বাস কেটে প্রাইভেটকার বের করে। সেই সঙ্গে হতাহতদের উদ্ধার করে এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

আরো পড়ুন: ১৬০০ বছর যাবত কাবার তত্বাবধান করে আসছে বনু শাইবা গোত্র !

দেড় শতাধিক প্রযুক্তিবিদ ও নির্মাতা বুধবার (২৭ জুলাই) পবিত্র কা’বা ঘরকে কিসওয়া তথা গিলাফ (বিশেষ কালো কাপড়) দ্বারা আচ্ছাদিত করেছেন।

গত সপ্তাহে কা’বার সিনিয়র তত্ত্বাবধায়ক সালেহ বিন জয়নুল আবিদীন আল-শাইবির হাতে পবিত্র কা’বা ঘরের জন্য প্রস্তুতকৃত নতুন কিসওয়াটি বাদশাহ সালমানের পক্ষ থেকে তুলে দেন মক্কার গভর্নর প্রিন্স খালিদ আল-ফয়সাল।

মক্কার উম্মুল জাউদে অবস্থিত কিং আবদুল আজিজ কমপ্লেক্সে কিসওয়ার কাপড়টি তৈরি করা হয়। এটি প্রাকৃতিক রেশমের তৈরি বিশেষ একটি কাপড় যা কালো বর্ণের। কিসওয়ার কাপড়টি ১৪ মিটার লম্বা। এর ওপরের তৃতীয় ভাগে একটি বেল্ট রয়েছে যা চওড়ায় ৯৫ সে.মি. ও লম্বায় ৪৭ মিটার।

বেল্টটিতে ১৬ টি স্কয়ার আকৃতির কাপড়ের অংশ রয়েছে যেগুলো আবার আরেকটি এমন স্কয়ার আকৃতির কাপড় দ্বারা বেষ্টিত যাতে বিভিন্ন ইসলামিক মোটিফ (আয়াত বা হাদিস সম্বলিত ক্যালিগ্রাফি) খোদাইকৃত রয়েছে।

পুরো কিসওয়ার কাপড়টি আলাদা চার অংশে বিভক্ত। পবিত্র কা’বা ঘরের দেয়ালের চারপাশ ঢেকে রাখার জন্যই মূলত চারটি অংশে পুরো কিসওয়া তৈরি করা হয়। তাছাড়া,দরজার জন্য আলাদা ভাবে একটি পর্দা তৈরি করা হয় যা দিয়ে কা’বা ঘরের দরজা ঢেকে রাখা হয়। পর্দা তৈরি করা একটি বহু-পর্যায় প্রক্রিয়ার অন্তর্ভুক্ত। কারণ কাপড়টির চার অংশের সমন্বয়ে কিসওয়াটিকে প্রথমে কা’বা ঘরে লাগানো হয়।

পরবর্তীতে, উপরের তৃতীয় অংশে বেল্ট এবং ইসলামিক মোটিফ খচিত টুকরাগুলো কিসওয়ায় সংযোজন করা হয়। এই পর্যন্ত ১১০ জনেরও বেশি তত্ত্বাবধায়কের পবিত্র কা’বা ঘরের তত্বাবধান করার সৌভাগ্য হয়েছে। তত্বাবধানের ঐতিহাসিক রীতিটি শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে পালিত হয়ে আসছে।

তত্ত্বাবধায়করা তাদের খোদা প্রদত্ত উত্তরাধিকার রক্ষা করে চলেছেন এমনকি এটা কুরআন ও সুন্নাহ দ্বারাও সমর্থিত। তত্বাবধান স্বরূপ বনু শাইবা গোত্র ১৬ শতাব্দী যাবত পবিত্র কা’বা ঘরের চাবি নিজেদের কাছে রাখার গৌরব অর্জন করেছে। ইসলামের পূর্বে কুসাই ইবনে কিলাব ইবনে মুররাহ’র বংশধরেরা কা’বা ঘরের দেখাশোনা ও রক্ষণাবেক্ষণ করতেন।

পরবর্তীতে তার অন্যতম বংশধর গোত্র বনী শাইবা তখন থেকে এখনব্ধি এই দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। বর্তমানে পবিত্র কা’বা ঘরের তত্ত্বাবধায়ক তারাই। তারা সেই গোত্র যাদেরকে মক্কা বিজয় সত্ত্বেও নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কা’বার চাবি ফিরিয়ে দিয়েছিলেন। কা’বা ঘরের রক্ষণাবেক্ষণ একটি পুরোনো ঐতিহ্যবাহী সম্মানিত দায়িত্ব। পবিত্র কা’বা ঘর খোলা,

বন্ধ করা, ঝাড়ু দেওয়া, ধৌত করা, কিসওয়া পরিধান করানো এবং কিসওয়ার কোনো অংশ যদি মেরামত করতে হয় তবে মেরামত করাও এই ঐতিহ্যবাহী দায়িত্বের অন্তর্ভুক্ত। জমজম ও গোলাপজলের পানি দ্বারা কা’বা ঘর ধৌত করা হয়। কা’বার ঘরের চার পাশের দেয়ালগুলো সুগন্ধযুক্ত পানি দিয়ে মুছে পরিস্কার করে সেখানে নামাজ পড়া হয়।

মসজিদুল হারামের অন্যতম দায়িত্বশীল আনাস আল-শাইবী আরব নিউজকে জানান, আমাদের পূর্বপুরুষ দাদা কুসাই বিন কিলাব যিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামেরও দাদা ছিলেন তিনি এই কা’বা ঘরের তত্ত্বাবধায়ক ছিলেন। পরবর্তীতে তিনি তার বড় ছেলে আব্দুল -দারের কাছে এই দায়িত্ব অর্পণ করেছিলেন এবং তিনি তার পুত্রদের।

এভাবে বংশপরম্পরায় ঐতিহ্যবাহী দায়িত্বটি আমাদের পর্যন্ত চলে এসেছে। তিনি বলেন, কা’বা ঘরের রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বটি মহান আল্লাহ পাকের একটি আশীর্বাদ যা কিয়ামত পর্যন্ত থাকবে। এই পবিত্র ঘরের চাবি সিনিয়র তত্ত্বাবধায়কের ঘরে সংরক্ষণ করে রাখা হয়।

আমরা উত্তরসূরীদের প্রতি আমাদের পূর্বপুরুষদের অসিয়ত ছিল যে, আমরা যেনো খোদা ভীতির পাশাপাশি ইসলামের মৌলিক বড় রোকনগুলোর প্রতি বিশেষ যত্নবান হই ও সেগুলোর হেফাজত করি। কা’বা ঘর খোলার জন্য যখন চাবি নিয়ে যাওয়া হবে তখন যেনো আমরা তা সবুজ রেশম ও স্বর্ণ দ্বারা নির্মিত ওয়াকফকৃত একটি ব্যাগে করে অত্যন্ত বিনয়ী ও নম্রতার সাথে তা নিয়ে যাই।

নাজ্জার আল-শাইবি বলেন, এই দায়িত্ব পাওয়ার জন্য যে বৈশিষ্ট্যগুলোর প্রতি লক্ষ্য রাখা হয় তা হল, পরিবার প্রধান হওয়া যিনি তার পরিবার ও ঘরের যাবতীয় বিষয়ের রক্ষণাবেক্ষণ করেন। আর তাকে অবশ্যই সৎ ও ভাল নৈতিকগুণের অধিকারী হতে হবে। তিনি বলেন, সময়ের সাথে সাথে চাবির আকৃতিতে পরিবর্তন সাধিত হয় নি বরং আজকের এই বাহ্যিক পরিবর্তনের পিছনে একমাত্র কারণ হল, কা’বা ঘর খুলতে না পারার কারণে চাবি মেরামত করণ।

তিনি বলেন, কা’বা ঘরের চাবির একটি স্বতন্ত্র বাহ্যিক রূপ রয়েছে যা অন্যান্য সাধারণ চাবির সাথে অতুলনীয়। তিনি বলেন, অদ্বিতীয় পবিত্র কা’বা ঘরের জন্য অবশ্যই চাবিটি এমন হতে হতো যা স্বতন্ত্র আকৃতি বিশিষ্ট এবং বিশেষ উপায়ে নির্মিত। এটিকে এমন অনন্য শৈল্পিক উপায়ে ডিজাইন করা হয়েছে যে,কা’বা ঘরের প্রধান তত্ত্বাবধায়ক ছাড়া আর কেউই তার ব্যবহার পদ্ধতি জানতে পারে না যে,এটি কিভাবে ব্যবহার করতে হয়।

কিসওয়ার ব্যাপারে শাইবি বলেন, সর্বপ্রথম ইয়েমেনের বাদশাহ তুব্বা কা’বা ঘরে কিসওয়া পরিধান করিয়েছিলেন। পরামর্শ ও উপহার পাওয়ার আশায় ইয়েমেনের বাদশাহর কাছে পৃথিবীর বিভিন্ন জায়গা থেকে লোকজন আসা-যাওয়া করতো কিন্তু কুরাইশ গোত্রের লোকেরা কখনোই তার কাছে যায়নি।

যখন তিনি তাদের সম্পর্কে জানতে চাইলেন তখন তাকে পবিত্র কা’বার কথা জানানো হয় এবং বলা হয় তারা এই পবিত্র ঘরটির রক্ষণাবেক্ষণকারী। এই কথা শুনে কা’বা ঘর গুড়িয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যে বাদশাহ তুব্বা গোপনে তার বাহিনী প্রস্তুত করছিলেন। কিন্তু বাহিনী প্রস্তুত করার সময় তিনি বার বার গুরুতর ভাবে অসুস্থ হয়ে পরছিলেন।

তারা তার এই রোগ নিরাময়ের ব্যর্থ চেষ্টা করে শেষমেশ জানালো যে এটি দুনায়াবী কোনো রোগ নয় বরং আসমানওয়ালা প্রদত্ত রোগ। পরবর্তীতে একজন বিজ্ঞ ব্যক্তি তাকে জানায় যে, তার অন্তরে এমন একটি খারাপ উদ্দেশ্য রয়েছে যার ফলে সে এমন অজানা গুরুতর রোগে ভুগছে, সে যেনো তা পূর্ণ করা থেকে বিরত থাকে।

এই কথা শুনার পর বাদশাহ তুব্বা যখন কা’বা ঘর গুড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা থেকে পিছু হটলেন ঠিক তখনই সাথেসাথে অলৌকিকভাবে তিনি সুস্থ হয়