বিক্রি না হওয়ায় পুতে ফেলা হলো ৬৩০ টি চামড়া

সিলেট বিভাগে বিক্রি না হওয়ায় কোরবানির পশুর চামড়া নিয়ে বিপাকে পড়েছেন মৌসুমি ব্যবসায়ীরা। ফলে বড় ক্ষতির মুখে পড়েছেন চামড়া ব্যবসায়ীরা। এ অবস্থায় সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর থেকে কোরবানির পশুর চামড়া এনে সিলেট নগরের আম্বরখানায় এলাকায় উন্মুক্তভাবে ফেলে রাখা হয়েছে। ফলে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে পুরো এলাকায়। সেই সঙ্গে আশপাশের লোকজন পড়েছেন বিপাকে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার মিরপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ মাহবুবুল হক শেরিনের জায়গা রয়েছে আম্বরখানায় এলাকায়। রাতের আঁধারে জগন্নাথপুর থেকে চামড়াগুলো এনে সেখানে ফেলেছেন তিনি।

অপরিকল্পিতভাবে ছয় শতাধিক চামড়া ফেলে রাখায় রোববার সকাল থেকে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে পুরো এলাকায়। দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ হয়ে পড়ে পুরো এলাকাবাসী। দুপুরে সিলেট সিটি করপোরেশন অভিযান চালিয়ে চামড়াগুলো অপসারণ করে।

সিসিকের কর্মকর্তারা জানান, শনিবার রাতে জগন্নাথপুর উপজেলার মিরপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মাহবুবুল হক ছয় শতাধিক চামড়া জগন্নাথপুর থেকে এনে আম্বরখানা এলাকার ওই খোলা জায়গায় ফেলে যান।

সকালে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ার বিষয়টি স্থানীয় কাউন্সিলর রেজাউল হাসান কয়েস লোদীকে জানান এলাকাবাসী। পরে কাউন্সিলরসহ স্থানীয়রা সিটি মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীকে জানালে মেয়রের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে চামড়াগুলো সরিয়ে নেয়া হয়।

অভিযানকালে সিসিকের পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা চামড়াগুলো সরিয়ে ট্রাকযোগে ডাম্পিং ইয়ার্ডে নিয়ে যান। সেখানে নিয়ে চামড়াগুলো মাটিতে পুঁতে ফেলা হয়। চামড়া ডাম্পিং করে রাখা চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র।

মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, আমরা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নগরীর কোরবানির বর্জ্য অপসারণ করতে সক্ষম হয়েছি। সিসিকের কর্মীরা এজন্য রাতভর পরিশ্রম করেছেন।

মহানগরকে পরিচ্ছন্ন রাখতে আমরা যখন চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি তখন জগন্নাথপুরের এক ইউপি চেয়ারম্যান খোলা জায়গায় ছয় শতাধিক চামড়া ফেলে রাখেন। ফলে পুরো এলাকায় দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে। দুর্গন্ধের খবর পেয়ে অনুসন্ধান চালিয়ে আম্বরখানা এলাকায় চামড়া স্তূপ করে রাখতে দেখি আমরা।

আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, চামড়া স্তূপ করে রাখার কারণ জানতে চেয়ারম্যান মাহবুবুল হক শেরিনের সঙ্গে আমি যোগাযোগ করেছিলাম। তিনি নিজের ইউনিয়নে চামড়া রাখতে না পেরে নগরে এনে স্তূপ করেছেন বলে জানিয়েছেন। এ সময় তিনি আমার সঙ্গে খারাপ আচরণ করেছেন। তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ইতোমধ্যে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনকে আমি বিষয়টি অবহিত করেছি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মিরপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগ নেতা মাহবুবুল হক শেরিন জাগো নিউজকে বলেন, আমার এলাকার বিভিন্ন কওমি মাদরাসার ছাত্র ও শিক্ষকরা মাদরাসার উন্নয়নের জন্য ঈদের দিন বিভিন্ন গ্রাম থেকে মোট ৬৩০টি চামড়া সংগ্রহ করেন। ঈদের দিন তাদের চামড়াগুলো কেনেনি কেউ।

এ অবস্থায় মাদরাসার শিক্ষকরা চামড়াগুলো নিয়ে বিপাকে পড়েন। একপর্যায়ে তারা আমার কাছে সাহায্য চাইলে নিজ খরচে ট্রাকযোগে সিলেটে দেয়াল ঘেরা নিজের জায়গায় চামড়াগুলো রেখে আসি। যদি সিলেটের ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করা যায়- এই আশায়।

তিনি বলেন, মাদরাসাগুলোর উন্নয়নের স্বার্থে আমি কাজটি করেছি। আমি কোনো চামড়া ব্যবসায়ী নই। গভীর রাত হওয়ায় লবণ পাওয়া যায়নি। তবে সকালে ওই চামড়ায় আমি লোক দিয়ে লবণ লাগিয়েছি।

পরে সেখান থেকে চামড়াগুলো নিয়ে মাটিতে পুঁতে ফেলেছেন সিসিকের পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা। আমি সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর সঙ্গে খারাপ আচরণ করিনি। তার নির্দেশে চামড়াগুলো পুঁতে ফেলা হয়েছে।