মিথ্যা মামলা আইনগত নয়, রাজপথেই মোকাবিলা করব: ভিপি নুর

মিথ্যা মামলা আইনগত নয়, রাজপথেই মোকাবিলা করবেন বলে জানিয়েছেন ডাকসুর সদ্য সাবেক ভিপি নুরুল হক নুর।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মামলার বিষয়ে জানতে চাইলে ডাকসুর ভিপি নুরুল হক নুর যুগান্তরকে বলেন, আমরা স্বৈরাচার সরকারের বিভিন্ন কাজের সমালোচনা করি, ভারতীয় আগ্রাসনের বিরুদ্ধে কথা বলি বলেই মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে। কাজেই এসব মামলায় আমরা আদালতে দৌড়াদৌড়ি করে সময় নষ্ট করবো না। রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলক মামলা রাজপথেই মোকাবিলা করবো।

ভিপি নুর বলেন, এর আগেও আমার নামে চুরির মামলা, ধর্মীয় উস্কানি দেয়ার প্রহসনমূলক মামলা হয়েছে। আর এমন রাজনৈতিক মামলা এই সরকারের আমলে অনেক প্রতিবাদী মানুষের বিরুদ্ধে হয়েছে। কাজেই আমরা মামলায় বিচলিত নই। রাজনৈতিক মামলা রাজপথেই মোকাবিলা হবে।

আরও সংবাদ

নুরের অনুসারীরা আমার বিরুদ্ধে কুৎসা রটাচ্ছে : ছাত্রলীগ নেত্রী

ইডেন মহিলা কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক আহ্বায়ক কমিটির সদস্য নুজহাত ফারিয়া রোকসানার এই ছবি শেয়ার করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কুৎসা রটানো হচ্ছে। ছবি : সংগৃহীত
ধর্ষণ ও এতে সহায়তা করার অভিযোগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাবেক ভিপি নুরুল হক নুরসহ বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদের ছয়জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রী।

এ নিয়ে একটি সংবাদ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে শেয়ার করে নুর ও তাঁর সহযোগীদের শাস্তি দাবি করে তোপের মুখে পড়েছেন ইডেন মহিলা কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক আহ্বায়ক কমিটির সদস্য নুজহাত ফারিয়া রোকসানা।

ওই ছাত্রী দাবি করেন, ‘মামলার সঙ্গে আমি কোনোভাবে সম্পৃক্ত না থাকলেও নুরের সহযোগীরা আমাকে নিয়ে বিভিন্নভাবে কুৎসা রটাচ্ছেন। এতে করে আমি এবং আমার পরিবার সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন হচ্ছি।’

নুজহাত ফারিয়া রোকসানা বলেন, ‘ধর্ষণের মামলায় অভিযুক্ত নুরের শাস্তি চেয়ে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেওয়ায় তাঁর অনুসারীরা তাদের ফেসবুকে এবং কোটা সংস্কার গ্রুপে আমার ছবি ব্যবহার করে বিভিন্ন কুরুচিপূর্ণ স্ট্যাটাস দিচ্ছে।’

‘মামলা করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক মেয়ে, আমি ইডেনে পড়ি। অথচ আমার ছবি ব্যবহার করে নানা রকম মিথ্যা ও বানোয়াট কুৎসা রটাচ্ছে, যা একজন নারীর জন্য অপমানজনক ও অবমাননাকর। আমি এই কুরুচিশীলদের বিপক্ষে অতিদ্রুত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছি,’ বলছিলেন ওই ছাত্রী।

এ বিষয়ে ডাকসুর ভিপি নুরুল হক নুর এনটিভি অনলাইকে বলেন, ‘আমি জানি না, কে বা কারা এটা করছে। তবে আমাদের দায়িত্বশীল জায়গা থেকে কেউ এটা করেনি।’

বিষয়টি নিয়ে কী পদক্ষেপ নেবেন জানতে চাইলে নুর বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বড় একটি প্ল্যাটফর্ম। এখানে অনেকেই অনেকভাবে অনেক কিছু নিজ থেকে করে। তবে তাঁকে নিয়ে যেন কোনো ধরনের কুৎসা রটনা না করে, সে ব্যাপারে সবাইকে সতর্ক থাকতে বলব।’

নুরুল হক নুরসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন এবং ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে গত দুদিনে রাজধানীর লালবাগ ও কোতোয়ালি থানায় দুটি মামলা করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের এক শিক্ষার্থী। মামলায় পরস্পর যোগসাজশে অপহরণ করে ধর্ষণ, ধর্ষণে সহায়তা এবং হেয়প্রতিপন্ন করে ডিজিটাল মাধ্যমে অপপ্রচার করার অভিযোগ আনা হয়।

গতকাল সোমবার কোতোয়ালি থানায় করা মামলার আসামিরা হলেন বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক নাজমুল হাসান সোহাগ (২৮), আহ্বায়ক হাসান আল মামুন (২৮), ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুর (২৫), ছাত্র অধিকার পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম (২৮), ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র অধিকার পরিষদের সহসভাপতি নাজমুল হুদা (২৫) এবং আব্দুল্লাহিল বাকি (২৩)। একই আসামিদের বিরুদ্ধে গত রোববার লালবাগ থানায় মামলা করেন ঢাবির ওই ছাত্রী। এই মামলায় বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার পরিষদের আহ্বায়ক হাসান আল মামুনকে ১ নম্বর আসামি করা হয়।

গতকাল বিকেলেই নুরের বিরুদ্ধে এ মামলার এজাহার গ্রহণ করে আগামী ৭ অক্টোবর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

এজাহারে মামলার বাদী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওই ছাত্রী উল্লেখ করেন, ‘আসামি হাসান আল মামুন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের সপ্তম ব্যাচের ছাত্র। তিনি আমার ডিপার্টমেন্টের বড় ভাই এবং বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদের সুবাদে তাঁর সঙ্গে আমার পরিচয় হয়। ২০১৮ সালের ২৯ জুলাই মামুনের সঙ্গে আমার ব্যক্তিগত সম্পর্ক তৈরি হয় এবং পরে তা প্রেমের সম্পর্কে গড়ায়।

এর ধারাবাহিকতায় আসামির সঙ্গে আমার বিভিন্ন সময়ে মেসেঞ্জার, ইমো, হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে কথোপকথন হয়। সেখানে আসামি আমাকে শারীরিক সম্পর্কের ইঙ্গিত দেয়। এরই ধারাবাহিকতায় আসামি এ বছরের ৩ জানুয়ারি দুপুর ২টার দিকে তার বাসা নবাবগঞ্জ বড় মসজিদ এলাকায় যেতে বলে এবং আমাকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে তার বাসায় ধর্ষণ করে।’

এজাহারে আরো বলা হয়েছে, ‘ঘটনার পর গত ৪ জানুয়ারি আমি অসুস্থ হয়ে পড়ি। ১২ জানুয়ারি আমাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মামুনের বন্ধু সোহাগের মাধ্যমে ভর্তি করানো হয়। হাসপাতালে ভর্তি থাকা অবস্থায় আমি ক্যাম্পাস রিপোর্টারদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে চাইলে মামুন ও সোহাগ বাধা দেয়। এর আগে মামুনকে বিয়ের জন্য চাপ দিলে সে রাজি হয়, কিন্তু আমি অসুস্থ হওয়ার পর সে নানা টালবাহানা শুরু করে।’

উপায়ান্তর না দেখে গত ২০ জুন বিষয়টি ভিপি নুরকে মৌখিকভাবে জানাই উল্লেখ করে এজাহারে আরো বলা হয়, ‘নুর বলেন, মামুন আমার সহযোদ্ধা। তাঁর সঙ্গে বসে একটা সুব্যবস্থা করে দেব। এরপর ২৪ জুন মীমাংসার আশ্বাস দিয়ে তিনি আমার সঙ্গে নীলক্ষেতে দেখা করতে আসেন। কিন্তু মীমাংসার বিষয়টি এড়িয়ে আমাকে এ বিষয়ে বাড়াবাড়ি করতে নিষেধ করেন। আমি যদি বাড়াবাড়ি করি,

তাহলে তাঁর ভক্তদের দিয়ে ফেসবুকে আমার নামে উল্টাপাল্টা পোস্ট করাবে এবং আমাকে পতিতা বলে প্রচার করবে বলে হুমকি দেয়। তাদের ছাত্র অধিকার পরিষদের ১.১ মিলিয়ন সদস্যের গ্রুপে এ প্রচারণার হুমকি দেওয়া হয়। নুর আরো বলেন, তার একটি লাইভে আমার সব সম্মান চলে যাবে। ইতোমধ্যে মামলার চার নম্বর আসামি সাইফুল ইসলাম আমার নামে কুৎসা রটিয়েছে এবং ৫ ও ৬ নম্বর আসামিকে লাগিয়ে দেয় কুৎসা রটাতে। তারা মেসেঞ্জার চ্যাট গ্রুপে আমার চরিত্র নিয়ে কথা বলে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করাসহ সম্মিলিতভাবে চক্রান্ত করে।’

এজাহারে বাদী আরো বলেন, ‘ছাত্র অধিকার পরিষদের নেতা পর্যায়ের কয়েকজন বিষয়টির সুষ্ঠু সমাধানের লক্ষ্যে কাজ করতে চাইলেও আসামিরা তাদের ষড়যন্ত্রকারী বলে আখ্যা দেয়। এরপর আমি শারীরিক-মানসিকভাবে অসুস্থ থাকায় এবং আত্মীয়স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে বলার কারণে মামলা করতে বিলম্ব হয়েছে।’