পদ্মা সেতুর রেল নকশায় গোলমাল: চলছে একে অপরকে দোষারোপ

পদ্মা সেতুর রেল নকশায় গোলমাল নিয়ে চলছে একে অপরকে দোষারোপ। ঢাকা থেকে পদ্মাসেতু হয়ে যশোর পর্যন্ত পদ্মাসেতুর রেল সংযোগ প্রকল্প। নারায়ণঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ, ফরিদপুরসহ ৮ জেলা হয়ে যশোর পৌঁছাবে ১৭২ কিলোমিটারের এই রেলপথ।

৩৯ হাজার ২৪৬ কোটি ৮০ লাখ টাকার প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে চায়না রেলওয়ে গ্রুপ লিমিটেড। ২০১৬ সালের জানুয়ারিতে কাজ শুরুর ৪ বছর আট মাসের মাথায় এর নকশায় দেখা গেছে বড় ধরণের ত্রুটি।

পদ্মা সেতু প্রকল্পের কর্তৃপক্ষ আগস্টের শেষের দিকে মাওয়া অংশের দুটি ও জাজিরা প্রান্তের দুটি পিলারের নকশা নিয়ে আপত্তি জানায়। ৮০ কিলোমিটার বেগে দুরন্ত গতিতে ছুটে আসা গাড়িগুলো পদ্মা সেতুতে ওঠার মুখে ঠিক এখানে এসে বাধাপ্রাপ্ত হবে।

কেননা রেল প্রকল্পের যে ১৪ ও ১৫ নম্বর পিলারটি নির্মাণ করা হচ্ছে তাতে প্রয়োজনীয় ৫.৭ মিটার উচ্চতা নেই এবং একই সঙ্গে রাস্তার দুপাশে যে প্রশস্ততা দরকার সেটিও নেই। যার কারণে ভারি যে যানগুলো রয়েছে সেগুলো এই রেল লাইনের নিচ দিয়ে পদ্মা সেতুতে উঠতে পারবে না।

পদ্মা সেতু প্রকল্পের পরিচালক শফিকুল ইসলাম বলেন, নকশায় আন্তর্জাতিক মান অনুসরণ করা হয়নি। তিনি আরো বলেন, স্ট্যান্ডার্ট যে হাইট আছে মহাসড়কের জন্য ৫.৭ মিটার এখানে কিছুটা কম আছে। যে হাইট দেয়া হয়েছে তাতে ন্যাশনাল হাইওয়েতেই সমস্যা হবে এটা তো আন্তর্জাতিক মহাসড়ক। এখানে যান চলাচলে সমস্যা হবে।

প্লাস হরিজেন্টাল ক্লিয়ারেন্সও কম, ভার্টিক্যাল ক্লিয়ারেন্সও কম। এ ত্রুটির দায়ভার রেলওয়ের তারা আমাদের সাথে কোন মতবিনিময় বা আলোচনা করে নাই। এটা উচিত ছিল। তাদেরও স্ট্যান্ডার্টের খোঁজ নেওয়া দরকার ছিল। নতুন করে দেখা দেয়া এ সমস্যায় প্রকল্প আরও পেছানোর শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

সঙ্গে ব্যয় বাড়াবে ব্যয়ও। রেলমন্ত্রী মো. নুরুল ইসলাম সুজন এর দাবি, সড়ক বিবেচনা করেই নকশা করা হয়েছে, নতুন চাহিদা দিচ্ছে সেতু কর্তৃপক্ষ। এতে মাওয়া ও জাজিরা অংশে রেল সংযোগ প্রকল্পের কাজ বন্ধ রয়েছে প্রায় এক মাস ধরে। ত্রুটি সংশোধনে দুটি টেকনিক্যাল টিম গঠন করেছে রেল মন্ত্রণালয়।

রেলমন্ত্রীর দাবি সড়কের বিষয়টি মাথায় রেখেই নকশা করা হয়েছে। নতুন করে উচ্চতা ও প্রশস্ত বাড়ানোর দাবি করছে সেতু বিভাগ। নুরুল ইসলাম সুজন বলেন, তাদের রিকোয়ারমেন্টের মধ্যেই করছিলাম। প্রশস্ততা নরমালি হয় ৯.১, কিন্তু তারা চাচ্ছে ১৫.৫ যেটা আনইউজুয়াল।

আমাদের উচ্চতা আছে ৫.৫ মিটার, তারা চাচ্ছে ৫.৭ মিটার। এটা এডজাস্ট করা সম্ভব। কিন্তু দ্বিমত হচ্ছে প্রশস্ততা নিয়ে। আমরা বলছি, রিকোয়ারমেন্ট অনুযায়ী এই সড়কের ডিজাইন দাও। কিন্তু তারা এখনো করেনি ডিজাইন। কিন্তু আমরা যখন কাজ করছি তখন তারা বাধ্যবাধকতা তৈরি করে দিয়েছে।

আমাদের বর্তমান যে স্পেস দেওয়া আছে সেটি যথেষ্ট। তারপরও রোডের সমস্যা হলে সেটি এডজাস্ট করতে দুটি টেকনিক্যাল টিম গঠন করে দেওয়া হয়েছে বলে মন্তব্য করেন রেলমন্ত্রী।

সুত্র: Insaf24.com

আরো পড়ুন: আমরা সেই মুসলিম জাতি, হয় জিতি, না হয় মরি: শহীদ ওমর মুখতার

ইতালিয় সেনাদের হাতে লিবিয়ার কিংবদন্তীতুল্য সংগ্রামী নেতা ওমর আল মুখতার শাহাদত বরণ করেন। এ সময় তার বয়স হয়েছিল ৭২ বছর। মুখতারের নেতৃত্বে ২৩ বছর ধরে ইতালিয় উপনিবেশবাদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম চালিয়েছিল লিবিয়ার মুজাহিদরা।

শৈশবে ইয়াতিম অবস্থায় তাকে দত্তক পুত্র হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন শারিফ আল গ্বারিয়ানি নামের এক ব্যক্তিত্ব। তিনি ছিলেন সেনুসসি সুফি নামের এক ধর্মীয়-রাজনৈতিক আন্দোলনের কর্মী। মুখতার জাগবুবে সেনুসসি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশুনা করেছিলেন ৮ বছর।

তিনি ছিলেন কুরআন-বিশেষজ্ঞ। মুখতার ১৮৯৯ সালে দখলদার ফরাসিদের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য শাদে গিয়েছিলেন। সেখানে ফরাসিদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন রাবিহ আজ জুবাইর। ১৯১১ সালের অক্টোবর মাসে উসমানী খেলাফতের বিরুদ্ধে ইতালির যুদ্ধের সময় ইতালির নৌবাহিনী হানা দেয় লিবিয়ার উপকূলে।

সে সময় লিবিয়া ছিল উসমানী খেলাফতের অংশ। ইতালিয়রা লিবিয়াকে আত্মসমর্পণ করতে বলে। কিন্তু তুর্কি সেনারা ও তাদের লিবিয় সহযোগীরা আত্মসমর্পণের পরিবর্তে উপকূল ছেড়ে পেছনের দিকে সরে আসেন। ইতালিয় হানাদার বাহিনী তিন দিন ধরে ত্রিপলি ও বেনগাজিতে বোমা বর্ষণ করে।

লিবিয়ার সাইরেনাইকা অঞ্চলের জনগণ শহীদ ওমর মুখতারের নেতৃত্বে একের পর এক প্রতিরোধ যুদ্ধ চালিয়ে যেতে থাকেন। মরুভূমির লড়াইয়ে অভিজ্ঞ ওমর মুখতার হয়ে ওঠেন ইতালিয় সেনাদের জন্য চক্ষুশূল। অবশেষে ১৯৩১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর এক অতর্কিত হামলায় আহত ও বন্দি হন মুখতার। ৫ দিন পর আতঙ্কগ্রস্ত ইতালিয় দখলদাররা তাকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে শহীদ করে।

ঐতিহাসিক বর্ণনা থেকে জানা যায় মরুর সিংহ নামে খ্যাত ওমর মুখতারকে মুসোলিনির ইটালিয়ান সেনা অফিসার জিজ্ঞেস করেছিল: তুমি কি জান তোমার শাস্তি মৃত্যুদণ্ড? জবাবে ওমর মুখতার বলেছিলেন, হ্যাঁ। ওই অফিসার বললেন, তুমি যা করেছ তার জন্য তুমি কী অনুতপ্ত? ওমর মুখতার বললেন, প্রশ্নই হয় না, আমি আমার দেশ আর মানুষের জন্য লড়েছি।

সেনা আদালতের বিচারক তার দিকে তাকিয়ে বলে, তোমার মত লোকের এমন পরিণতি দেখে আমি দুঃখিত । ওমর মুখতার বললেন, “কিন্তু এটাই তো জীবন শেষ করার সর্বশ্রেষ্ঠ উপায়। মহান আল্লাহকে ধন্যবাদ তিনি আমাকে এভাবে বীরের মত শহীদ হওয়ার সুযোগ দিয়েছেন।”

এরপর বিচারক প্রস্তাব দিল তাকে মুক্ত করে দেয়া হবে যদি তিনি মুজাহিদদের কাছে চিঠি লেখেন যাতে মুজাহিদরা ইটালিয়ানদের সাথে যুদ্ধ বন্ধ করে। ওমর মুখতার বিচারকের দিকে তাকিয়ে বলেছিলেন: “যেই শাহাদত অঙ্গুলি দিয়ে আমি প্রতিদিন সাক্ষ্য দেই যে এক আল্লাহ ছাড়া আর কোন মাবুদ নাই। সেই আঙ্গুল দিয়ে অসত্য কোনো কথা লিখতে পারবো না।

আমরা এক আল্লাহ ছাড়া আর কারো কাছে আত্মসমর্পণ করি না। আমরা হয় জিতি, না হয় মরি।” মহান আল্লাহ শহীদ বীর মুখতারকে জান্নাতের সর্বোচ্চ স্তরে স্থান করে দিন। ‪আমীন

আরো পড়ুন: বর্তমান সময়ে বিশ্ব মুসলিমের ঐক্যের বিকল্প নেই: তুর্কি ধর্মমন্ত্রী

বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর সংহতি ও ঐক্যের প্রতি গুরুত্বারোপ করেছে তুরস্ক। এ জন্য মুসলিম দেশগুলোর সবাইকে একত্রে এক প্লাটফর্মে বসারও আহ্বান জানিয়েছে দেশটি। গত ৯ সেপ্টেম্বর তুর্কি ধর্মমন্ত্রী আলী এরবাশ একটি ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে তার এ ইচ্ছার কথা জানান।

কনফারেন্সে পাকিস্তানের ধর্মমন্ত্রী পীর নুরুল হক কাদেরিও অংশ নেন। আলী এরবাশ বলেন, আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে সম্প্রতি ইউরোপের পাশাপাশি ভারত ও মিয়ানমারেও ইসলামোফোবিয়া (ইসলামভীতি) বিস্তার বৃদ্ধি পাচ্ছে। তিনি মনে করেন, এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে আমাদের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে; মুসলিম হিসেবে আমাদের পারস্পরিক ঐক্য ও সংহতির বিকল্প নেই।

তার মতে, এ ক্ষেত্রে পুণ্যময় নগরী আলকুদস (জেরুসালেম) বিশ্ব মুসলিম উম্মাহকে ঐক্যবদ্ধ করার অন্যতম প্ল্যাটফর্ম হতে পারে। ফিলিস্তিন ইস্যুতে তুরস্ক ও পাকিস্তানের অভিন্ন অবস্থানের কথা উল্লেখ করে আলী এরবাশ বলেন, উভয় দেশ কাশ্মিরে ভারতের চলমান আগ্রাসন সম্পর্কেও অবগত।

কাশ্মিরিদের ওপর ভারত সরকারের অত্যাচার বন্ধে বিশ্ববাসীকে সজাগ করতে দুই দেশই সচেষ্ট রয়েছে। তা ছাড়া তুরস্ক ও পাকিস্তান সব সময় মজলুমদের পাশে থাকবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তুর্কি ধর্মমন্ত্রী মনে করেন, পাকিস্তান তুরস্কের সত্যিকারের মিত্র।

গত ২৪ জুলাই ঐতিহাসিক আয়া সোফিয়া মসজিদ পুনরায় মুসল্লিদের নামাজ আদায়ের জন্য খুলে দেয়ায় পাকিস্তানের অভিনন্দনবার্তা প্রেরণ পাক-তুর্কি দ্বিপক্ষীয় মিত্রতার সর্বশেষ উদাহরণ।

আরো পড়ুন: নতুন মানচিত্র ইস্যুতে ভারতকে এক হাত নিলেন পাকিস্তান !

নতুন মানচিত্র ইস্যুতে ভারতকে এক হাত নিলেন পাকিস্তানি মন্ত্রী অনলাইন ডেস্ক নতুন মানচিত্র ইস্যুতে ভারতকে এক হাত নিলেন পাকিস্তানি মন্ত্রী পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মাহমুদ কোরেশি আজ বুধবার বলেছেন, ভারত নিজের আগ্রাসী আচরণের কারণে আন্তর্জাতিক ফোরামগুলোতে বিশ্বাসযোগ্যতা হারিয়েছে।

সাংহাই সহযোগিতা সংস্থা বা এসসিও’র অনলাইন বৈঠকে পাকিস্তানের নতুন মানচিত্র ইস্যুতে ভারত অপদস্থ হয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন। খবর ডন ও পার্সটুডের। কোরেশি বলেন, সাংহাই সহযোগিতা সংস্থা ভারতের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে।

এটা নয়া দিল্লির জন্য অপমানজনক। পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, বৈঠকের আয়োজক দেশ রাশিয়া ভারতের দৃষ্টিভঙ্গিকে গ্রহণ করেনি। ভারত বৈঠকে এই বিষয়টি উত্থাপন করে সংস্থার নীতিমালা লঙ্ঘন করেছে।

ভারত-চীন সীমান্ত উত্তেজনার প্রতি ইঙ্গিত করে কোরেশি বলেন, আলোচনার মাধ্যমে লাদাখ সীমান্ত ইস্যু সমাধানের জন্য চীন বারবার আহ্বান জানালেও ভারত আগ্রাসী আচরণ করেছে। এ কারণে পরবর্তীতে অপমানিত হয়েছে। চীন ভারতের আগ্রাসনের জবাব দিয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।

গতকাল মঙ্গলবার রাশিয়ার আহ্বানে ‘সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশনে’র বৈঠকে পাকিস্তান নতুন মানচিত্র প্রদর্শন করার পর এর প্রতিবাদে ভারতের প্রতিনিধি অজিত দোভাল ওয়াক আউট করেন।

কিন্তু ভারতের প্রতিবাদের পরও পাকিস্তানের প্রতিনিধিকে ব্যাকগ্রাউন্ডে ঐ মানচিত্র রেখেই বক্তৃতা চালিয়ে য