যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও আজারবাইজানে আর্মেনিয়ান হামলার নিন্দা জানিয়েছে তুরস্ক !

যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও আজারবাইজানের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর গঞ্জায় আর্মেনিয়ার হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে তুরস্ক। রোববার (১১ অক্টোবর) তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে এ নিন্দা জানানো হয়।

এতে বলা হয়েছে, যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও আজারবাইজানে আর্মিনিয়ান হামলার ঘটনা দু-দেশের সংঘাতকে আরো ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য উস্কানির একটি নতুন উদাহরণ। বেসামরিক নাগরিকদের উপর এই হামলা চালিয়ে আর্মেনিয়া বুঝাতে চাচ্ছে যে,

আন্তর্জাতিক মানবিক আইন লঙ্ঘনে তাদের কোন সমস্যা নেই এবং যুদ্ধবিরতি কী তা তারা বুঝেনা। এছাড়াও বিবৃতিতে এ হামলাকে দখলদার এবং আক্রমণাত্মক মানসিকতার স্পষ্ট প্রতিচ্ছবি বলে উল্লেখ করে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে

আর্মিনিয়ার অনাচার বন্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। উল্লেখ্য, গত শনিবার (১০ অক্টোবর) যুদ্ধ বিরতিতে সম্মত হওয়ার পর রবিবার তা লঙ্ঘন করে আর্মিনিয়ান বাহিনী আজারবাইজানে শহর গঞ্জার একটি এপার্টম্যান্টকে লক্ষ্য করে হামলা চালায়। এতে কমপক্ষে নয়জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছে।

সূত্র: ইয়েনি সাফাক

আরো পড়ুন: এইচএসসি পরিক্ষার কোন সুযোগ নাই,যেভাবে নির্ধারিত হবে ফলাফল: শিক্ষামন্ত্রী

করোনাভাইরাসের কারণে স্থগিত থাকা এবছর উচ্চ মাধ্যমিক (এইচএসসি) ও সমমানের পরীক্ষা সরাসরি হচ্ছে না।

শিক্ষার্থীদের জেএসসি ও এসএসসি পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতে এইচএসসি পরীক্ষার ফল নির্ধারণ করা হবে। আজ বুধবার (৭ অক্টোবর) দুপুরে শিক্ষা মন্ত্রণালয় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি।

তিনি বলেন, ‘এই পরীক্ষা সরাসরি না নিয়ে ভিন্ন পদ্ধতিতে মূল্যায়নের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। আরও জানা যায়, যারা আগের বছর পরীক্ষা দিয়ে এক বা ততোধিক বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছিল তাদের ক্ষেত্রেও জেএসসি ও এসএসসির ফলাফলের উপর মূল্যায়ন করা হবে।

মন্ত্রী আরও বলেন, ‘এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষাগ্রহণের জন্য এক বেঞ্চে একজন শিক্ষার্থী সম্ভব নয়। আবার কেন্দ্র দ্বিগুণ করার জনবলও আমাদের নেই। তাই শিক্ষার্থীদের জীবনের নিরাপত্তায় সার্বিক বিবেচনায় ২০২০ সালের এইচএসসি পরীক্ষা ভিন্ন পদ্ধতিতে মূল্যায়ন হবে।

যেভাবে গ্রহণযোগ্যতা পাবে, তা বিবেচনা করছি।’ এ সময় উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মাহাবুব হোসেন, কারিগরি ও মাদ্রাসা বিভাগের সচিব মো. আমিনুল ইসলাম খান,

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মু. জিয়াউল হকসহ সব শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানরা। করোনার কারণে গত ১৭ মার্চ থেকে আগামী ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে।

গত ১ এপ্রিলে এইচএসসি পরীক্ষা শুরুর কথা ছিল। করোনার কারণে তা স্থগিত করা হয়। চলতি বছরে এ পরীক্ষায় মোট পরীক্ষার্থী ১৩ লাখের বেশি।

আরো পড়ুন-বিজ্ঞানের ইঙ্গিতবাহী আয়াত পড়ে ইসলাম গ্রহণ নওমুসলিমের কথা

মুক্তচিন্তায় অভ্যস্ত একটি পরিবারে আমার জন্ম। তাই শৈশব থেকে আমি বাস্তবতা ও বিজ্ঞানে বিশ্বাসী ছিলাম। কোরআনে আমি আমার সেই বিশ্বাসের প্রতিধ্বনি খুঁজে পেয়েছি।

কোরআনে বিজ্ঞানের অনুকূল বহু আয়াত রয়েছে। আমার ইসলাম গ্রহণের পেছনে কোরআন পাঠের বিশেষ ভূমিকা রয়েছে। আমি গোপনে কোরআন পাঠ করতাম। একদিন মা আমাকে রুমের ভেতর কোরআন পড়তে দেখে অপ্রস্তুত হয়ে যান। এরপর কয়েক মাস দুজনের মধ্যে স্বাভাবিক সম্পর্ক ছিল না।

যখন তিনি বুঝতে পারলেন, আমাকে ইসলাম শেখা ও তার পরিপালন থেকে বিরত রাখতে পারবেন না, তখন এক রমজানে তিনি আমাকে ঘর থেকে বের হয়ে যেতে বললেন। অথচ আমি তখন রোজাদার।

২০১৪ সালে ২৬ বছর বয়সে আমি ইসলাম গ্রহণ করি। মুসলমানের ধর্মবিশ্বাস হলো, পৃথিবীর সব শিশু মুসলিম হিসেবেই জন্মগ্রহণ করে। সে হিসেবে আমি কেবল নিজ ধর্মে ফিরে এসেছি।

আমার পরিবর্তন ও ইসলাম গ্রহণ মায়ের পক্ষে মেনে নেওয়া কঠিন ছিল। কেননা তিনি মুসলিমদের ব্যাপারে মিডিয়ার প্রচার দ্বারা প্রভাবিত ছিলেন। প্রথমে ভাবলাম, ইসলাম সম্পর্কে যথাযথ জ্ঞান না থাকায় তিনি হয়তো পরিবর্তন মেনে নিতে পারছেন না।

তাই তাঁকে বোঝানোর চেষ্টা করলাম। কিন্তু আলোচনাগুলো ঝগড়া ও বিবাদে রূপ নিত। আমি বুঝে গেলাম বিষয়টি সমাধান হওয়ার নয়। তাই আমার ইসলাম গ্রহণের ব্যাপারে যাদের আপত্তি ছিল তাদের থেকে দূরে সরে গেলাম। চিন্তা করে দেখলাম, ইসলাম আমাকে একজন ভালো মানুষে পরিণত করেছে—এটা প্রমাণ করাই ইসলামের সৌন্দর্য তুলে ধরার সর্বোত্তম পথ।

আমি সে চেষ্টা করে গেলাম। কিছুদিন পর তারা বুঝতে পারে, আমি আরো বেশি শ্রদ্ধাশীল হয়েছি। সব প্রতিকূলতার মধ্যে আমি শান্ত ছিলাম। কেননা আমার ভেতরে প্রশান্তি ছিল। সত্যিই ইসলাম আমার জীবনে অনেক পরিবর্তন এনেছে।

ইসলাম একটি চমৎকার ধর্ম। ইসলামের সৌন্দর্য আমাকে শান্তি ও প্রশান্তি দিয়েছে। ইসলাম গ্রহণের কারণে পরিবারের সদস্যরা বিরূপ হলেও আমি এমন বহু মানুষ পেয়েছি, যারা সবাইকে উদার ও মুক্ত মনে গ্রহণ করতে পেরে আনন্দিত।

যখন আমি অন্যদের আমার ইসলাম গ্রহণের ব্যাপারে জানালাম, তাদের বেশির ভাগই ছিল বিস্মিত ও আহত। তারা ঘৃণামিশ্রিত নানা প্রশ্ন ছুড়ে দিত। যেমন—তারা বলত, তুমি কি জানো না যে তুমি আর কখনো শূকরের গোশত খেতে পারবে না?

তুমি কি জানো না যে তোমার স্বামী চারটি বউ রাখতে পারবে? তুমি কি জানো না যে ইসলাম একটি সন্ত্রাসী ধর্ম? আমি হাসিমুখে এসব প্রশ্ন এড়িয়ে যেতাম।

এ ক্ষেত্রে কোরআনের একটি আয়াত আমার অন্তরের গভীরে প্রতিধ্বনিত হতো—‘ধর্মে কোনো বাড়াবাড়ি নেই। বস্তুত সত্য পথ স্পষ্ট হয়ে গেছে অসত্য পথ থেকে।’ আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, প্রতিটি মানুষকে জীবনের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা ও জ্ঞান দেওয়া হয়েছে—সেটা ধর্মের ক্ষেত্রে হোক বা অন্য কোনো ক্ষেত্রে।

আপনি যদি চান মানুষ আপনার ব্যাপারে কোনো সিদ্ধান্ত না নিক, তবে আপনারও উচিত তাদের সিদ্ধান্তের ব্যাপারে মন্তব্য না করা।

অ্যাবাউট ইসলাম থেকে