ভারতের সাথে উত্তেজনার মধ্যে শব্দের চেয়ে ৫ গুণ বেশি দ্রুতগতির যুদ্ধবিমান পরিক্ষা চালালো চীন !

শব্দের গতির চেয়ে ৫ গুনেরও বেশি গতি সম্পন্ন ক্ষেপণা’স্ত্র নিক্ষেপক বোমারু বিমান তথা হাইপারসনিক বিমানের সফল পরীক্ষা চালিয়েছে চীন। এটি মার্কিন ক্ষেপণা’স্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ভেদ করে পারমানবিক ক্ষেপণা’স্ত্র নিক্ষেপ করতে সক্ষম।

মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় পেন্টাগনের কর্মকর্তারা এ সাফল্যের ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়ার কথা জানিয়েছেন। চীনের তৈরি এ হাইপারসনিক গ্লাইড ভ্যাহিক্যাল সম্প্রতি পরীক্ষা করা হয়েছে এবং ডাব্লিউ-১৪ নামের এই বিমান সর্বোচ্চ গতির রেকর্ড সৃষ্টি করেছে বলেও জানিয়েছেন তারা।

চীনের কাছে আন্তঃমহাদেশীয় ক্ষেপণা’স্ত্র রয়েছে এবং এ দেশটি এই ক্ষেপণা’স্ত্র গুলির গতি শব্দের গতির চেয়ে ১০ গুণ বৃদ্ধি করার লক্ষ্য নিয়েছে বলেও জানা গেছে। হাইপারসনিক গতি বলতে ঘণ্টায় ৩,৮৪০ মাইল থেকে ৭,৬৮০ মাইল পর্যন্ত বোঝায়।

উল্লেখ্য, শব্দের গতিবেগ ঘণ্টায় ১,২৩৪ কিলোমিটার বা ৭৬৭ মাইল। মার্কিন বিমান বাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা মার্ক স্ট্রোক জানিয়েছেন চিন মুলত দুই ধরনের হাইপারসনিক বিমান তৈরির চেষ্টা চা’লাচ্ছে।

তিনি মনে করেন, এই ধরনের বিমানের গতি ৯,১২৭ মাইল পর্যন্ত হতে পারে এবং তা মার্কিন ক্ষেপণা’স্ত্র ব্যবস্থাকে এড়াতে সক্ষম। চীন ছাড়াও বর্তমানে এই ধরনের ক্ষেপণা’স্ত্র বিমান তৈরির চেষ্টায় রয়েছে আমেরিকা, ভারও ও রাশিয়া ।

আরো পড়ুন-ভয়াবহ সুনামি থেকে কিভাবে রক্ষা পেয়েছিল ইন্দোনেশিয়ার মসজিদগুলো?

ইন্দোনেশিয়ার বান্দা আচেহ শহরে বেশ কয়েক বছর আগে ভয়াবহ সুনামি আঘাত হেনেছিল। যে সুনামির প্রভাব পড়েছিল বিশ্বের বিভিন্ন দেশে। সুনামির তাণ্ডবে সেখানে শুধু বেশ কিছু মসজিদ অক্ষত অবস্থায় ছিল।

মসজিদগুলোতে আশ্রয় নেওয়া মানুষজন ওই সময় প্রাণে বেঁচে যায়। এ কারণে পরবর্তী সময়ে বেড়ে যায় তাদের ধর্মীয় বিশ্বাস।

স্থপতিরা বলছেন, সেখানকার অন্য ভবনগুলোর তুলনায় মসজিদগুলো শক্তপোক্ত করে নির্মাণ করা। অন্য ভবনগুলো নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে নির্মাণ করার কারণে সুনামিতে ধ্বংস হয়ে গেছে।

তবে সুনামিতে বেঁচে যাওয়া বহু মানুষের বিশ্বাস, সৃষ্টিকর্তার ইচ্ছায় মসজিদগুলো রক্ষা পেয়েছে। সুনামির সময় বায়তুর রহমান গ্র্যান্ড মসজিদে আশ্রয় নেওয়া আহমেদ জুনাইদি বলেন,

ওই সময় রক্ষা পাওয়ার কারণ হলো, এটা আল্লাহর ঘর। যিনি নিজেই সুনামি তৈরি করেছেন। তা থেকে তিনিই রক্ষা করেছেন।

জানা গেছে, ১৮৮১ সালে ডাচ উপনিবেশের অধিকারীরা ওই মসজিদ নির্মাণ করেছেন। ২০০৪ সালের ২৬ ডিসেম্বর ভয়াবহ সুনামিতে দুই লাখ ৩০ হাজারের বেশি মানুষ মারা যায়। তবে শহরটির মসজিদগুলো ওই ঘটনায় টিকে যায়।

ইন্দোনেশিয়ার আচেহ শহরে বেশির ভাগ মানুষই মুসলমান। আল্লাহর প্রতি ভয় উঠে যাওয়ার কারণে ভয়াবহ ওই দুর্যোগ নেমে এসেছিল বলেও বিশ্বাস করেন অনেকে।

শাইখ কুয়ালা ইউনিভার্সিটির স্থপতি মির্জা ইরওয়ানশাহ বলেন, সুনামির সময় অন্তত ২৭টি মসজিদ অক্ষত ছিল। সুনামির পর সেই মসজিদগুলোর ছবি ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়েছিল।

আসলে ওই মসজিদগুলোর নির্মিত ছিল কাঠামো মেনে এবং উন্নত সামগ্রী ব্যবহার করে। ইউরোপিয়ানরা মসজিদগুলো নির্মাণ করেছিল বহু বছর টিকে থাকার মতো করেই।

অন্যদিকে রেজা নাসিমি সুনামি দেখেছেন চোখের সামনে। তিনি বলেন, বহু মানুষের দেহ ভেসে যেতে দেখেছিলাম মসজিদের ছাদে দাঁড়িয়ে। আমি দ্বিতীয় জীবন পেয়েছি। আমি সত্যিই ভাগ্যবান। জীবনে ভালো কিছু করার ইচ্ছা পোষণ করি ওই সময়ের পর থেকে।

সূত্র : দ্য ন্যাশনাল।