যুদ্ধবিধ্বস্ত আজারবাইজানে মানবিক সহায়তা পাঠিয়েছে তুরস্ক

সোহেল আহম্মেদআজারবাইজানের উচ্চ কারাবাখ অঞ্চলে আর্মেনিয়ান হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত আজারবাইজানীয়দের ত্রাণ পাঠিয়েছে তুরস্ক। বুধবার (১৪ অক্টোবর) ত্রাণ বহনকারী তুরস্কের রেড ক্রিসেন্টের চারটি ট্রাকসহ একটি দল আজারবাইজানের রাজধানী বাকু পৌঁছেছে।

ত্রাণ বোঝাই করা চারটি ট্রাকের ওই দলকে আজারবাইজানে নিযুক্ত তুরস্কের রাষ্ট্রদূত এরকান ওজোরাল, আজারবাইজান রেড ক্রিসেন্টের সহসভাপতি কাফার আসগরজাদে এবং অন্যান্য কর্মকর্তারা বাকুতে অভ্যর্থনা জানায়। ত্রাণসামগ্রীর মধ্যে রয়েছে ২৫০ টি দুর্যোগ তাঁবু, ৩ হাজার কম্বল, ৫০০ টি বেড এবং ২৮৮ টি কিচেন সেট।

অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় ওজোরাল বলেন, তুরস্ক আজারবাইজানকে সব ধরণের সহায়তা প্রদান অব্যাহত রাখবে। এ সময় তিনি আজারবাইজানের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ভূখণ্ড আপার কারাবাখের পক্ষে তুরস্কের সমর্থনের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।

আজারবাইজানীয় কর্তৃপক্ষের মতে, আর্মেনিয়ান বাহিনীর হামলায় এখন পর্যন্ত ৪৩ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন এবং কমপক্ষে ২০০ জন আহত হয়েছেন।

উল্লেখ্য, গত ২৭ সেপ্টেম্বর আর্মেনিয়ান বাহিনী আপার কারাবাখের আজারবাইজানীয় বসতি এবং সামরিক অবস্থানকে লক্ষ্য করে হামলা চালায়। এতে বেশকিছু হতাহতের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় দু-দেশের মধ্যে তীব্র সংঘর্ষ বাঁধে।

পরবর্তীতে বন্দীদের বিনিময় ও মৃতদেহ উদ্ধারের জন্য গত শনিবার থেকে মানবিক যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয়েছিলো। এর আগে শুক্রবার মস্কোয় রাশিয়া, আজারবাইজান এবং আর্মেনিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের মধ্যে ত্রিপক্ষীয় বৈঠকের পর এই চুক্তি হয়।

এর একদিন পরেই রোববার আর্মেনিয়ান বাহিনী যু’দ্ধ বিরতি লঙ্ঘন করে আজারবাইজানের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর গঞ্জায় একটি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় যদিও এই অঞ্চলটি প্রথম সারির জোনের বাইরে রয়েছে। এ হামলায় ১০ জন বেসা’মরিক নাগরিককে হত্যা করেছে এবং আরও ৩৫ জনকে আহত করেছে।

১৯৯১ সাল থেকে আর্মেনিয়ান সেনাবাহিনী উচ্চ কারাবাখ দখল করার সময় থেকে দুটি প্রাক্তন সোভিয়েত প্রজাতন্ত্রের মধ্যে উত্তেজনাপূর্ণসম্পর্ক বিরাজ করছে। আজারবাইজানের প্রায় ২০% অঞ্চল প্রায় তিন দশক ধরে অবৈধ আর্মেনিয়ান দখলে রয়েছে।

আরও সংবাদ

চীন থেকে নতুন ৭টি কে-৮ডব্লিউ জেট ট্রেইনার পেলো বাংলাদেশ

বাংলাদেশ বিমান বাহিনী চীন থেকে নতুন সংগ্রহ করা কে-৮ডব্লিউ জেট ট্রেইনার বিমানগুলো নিয়ে আসছে।

বিমানগুলো নিয়ে আসতে চীনে বিএএফ পাইলটদের একটি দলকে পাঠানো হয়। বাংলাদেশে পৌছার আগে বিমানগুলো প্রতিবেশি একটি দেশে স্টপওভার করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সাতটি কে-৮ডব্লিউ ইন্টারমেডিয়েট জেট ট্রেইনার সংগ্রহের লক্ষে বাংলাদেশ সরকার ২০১৮ সালের ২০ জুন চীন সরকারের সঙ্গে চুক্তি করে।

কোভিড মহামারির কারণে বিমানগুলো সরবরাহে বিলম্ব হয়।বাংলাদেশ বিমান বাহিনীকে সরবরাহের জন্য এগুলো বেশ কয়েক মাস আগেই প্রস্তুত হয়ে গিয়েছিলো।

বর্তমানে কে-৮ডব্লিউ বিমানগুলো যশোরে বিএএফের মতিউর রহমান ঘাঁটিতে ১৫তম স্কোয়াড্রনে যুক্ত হবে।

২০১৪ সাল থেকে বাংলাদেশের দুটি এয়ারক্রাফট দুর্ঘটনায় ধ্বংস হয়। ২০১৮ সালের ১ জুলাই রাতের বেলা আকাশে ওড়ার সময় কারিগরি ত্রুটির কারণে এক দুর্ঘটনায় ২ পাইলট নিহত হয়।

সাতটি কে-৮ডব্লিউ জেট ট্রেইনার যোগ হওয়ার পর বিএএফের প্রশিক্ষণ বিমানের সংখ্যা দাঁড়াবে ১৫।

কে-৮ডব্লিউ হলো দুই সিটের ইন্টারমেডিয়েট জেট ট্রেনার ও লাইট অ্যাটাক এয়ারক্রাফট। চীনের নানচাং এয়ারক্রাফট মেনুফেকচারিং করপোরেশন এটি তৈরি করছে। পাকিস্তান এই প্রকল্পের সহযোগী। আর প্রাথমিক কন্ট্রাকটর হলো হংদু এভিয়েশন ইন্ডাস্ট্রি করর্পোরেশন।

কে-৮ডব্লিউ হলো সর্বশেষ সংস্করণ যাতে উন্নত ককপিট ও এইচইউডি রয়েছে। এই বিমান তার ৫টি হার্ডপয়েন্টে ১,০০০ কেজি ভার বহন করতে পারে। সেন্টারলাইন হার্ডপয়েন্টে একটি ২৩এমএম ক্যানন রয়েছে। ডানার নিচে প্রতিটি হার্ডপয়েন্টে ২৫০ কেজি পর্যন্ত বোমা বহন করা যায়।

এটা ১২ রাউন্ড করে গোলা সম্পন্ন ৫৭ এমএম আনগাইডেড রকেট বহন করতে পারে। পাশাপাশি পিএল-৫, পিএল-৭ স্বল্প পাল্লার এয়ার-টু-এয়ার মিসাইলও ছুঁড়তে পারে কে-৮ডব্লিউ। তাছাড়া ২০০/২৫০ কেজি আনগাইডেড বোমা, বিএল৭৫৫ ক্লাস্টার বোমা ও দুটি ৮০ গ্যালনের ড্রপ-ট্যাঙ্ক রয়েছে অনবোর্ডে ডানার নিচে হার্ডপয়েন্টে।

কে-৮ডব্লিউ ইএফআইএস সজ্জিত এবং এর ইঞ্জিন ইউক্রেনের তৈরি ইভশেঙ্কো-প্রগ্রেস এআই-২৫টিএলকে টার্বোফ্যান জেট ইঞ্জিন, যার থ্রাস্ট ১৬.৯ কেএন।

এর এয়ারফ্রেমের সার্ভিস লাইফ ৮,০০০ ফ্লাইট আওয়ার।

এই বিমান অ্যাঙ্গোলা, বলিভিয়া, মিশর, ঘানা, মিয়ানমার, নামিবিয়া, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, সুদান, ভেনেজুয়েলা, জাম্বিয়া ও জিম্বাবুয়েতে রফতানি করা হয়েছে।

Source ডিফেন্স.পিকে