উদ্ধারকারী জাহাজের ধাক্কায় বুড়িগঙ্গা সেতুতে ফাটল, যানবাহন চলাচল বন্ধ !

রাজধানীর পোস্তগোলায় বুড়িগঙ্গা নদীর ওপর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সেতু-১ (প্রথম বুড়িগঙ্গা সেতু) এর চার লেনের একটিতে সোমবার সন্ধ্যা থেকে যানবাহন চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ করা হয়েছে।

সদরঘাটে সকালে ডুবে যাওয়া লঞ্চ উদ্ধারে যাওয়ার সময় উদ্ধারকারী জাহাজের ধাক্কায় সেতুটিতে ফাটল তৈরি হয় বলে সড়ক ও জনপথ বিভাগ (সওজ) জানিয়েছে। সওজের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (ঢাকা অঞ্চল) সবুজ উদ্দিন খান বলেন, সেতুর একটি জায়গায় ফাটল দেখা দেওয়ায়, যানবাহন চলাচল স্থগিত করেছি।

আমাদের বিশেষজ্ঞরা পরিদর্শন করার পর পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি জানান, পরিদর্শন করে দেখা গেছে সেতুর গার্ডারের অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ কারণে ঢাকা-মাওয়া রুটে যান চলাচলের একটি লেন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, মঙ্গলবার বিশেষজ্ঞ দল পরিদর্শনের পর, যদি প্রয়োজন হয়, তবে অন্য লেনও বন্ধ করে দেওয়া হবে।

সোমবার সকালে বুড়িগঙ্গা নদীতে ডুবে যাওয়া লঞ্চটি উদ্ধার করতে নারায়ণগঞ্জ থেকে সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালের দিকে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) উদ্ধারকারী জাহাজ যাচ্ছিল। বিআইডব্লিউটিএর চেয়ারম্যান কমোডর গোলাম সাদেক বলেন, উদ্ধারকারী জাহাজের মাস্টার দ্রুত দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছতে চাইছিলেন। তার ভুলে সেতুতে আঘাত লাগতে পারে।

তবে, সেতুতে যে ফাটল তৈরি হয়েছে, তা তেমন মারাত্মক নয় বলে তিনি মনে করেন। উদ্ধারকারী জাহাজটি সেতু পার হতে না পারায়, বিকল্প পথ দিয়ে গিয়ে উদ্ধার অভিযান চালিয়েছে বলে জানান বিআইডব্লিউটিএ চেয়ারম্যান।

আরো পড়ুন-প্রেসিডেন্ট হচ্ছেন বাইডেনই: ট্রাম্প

সদ্য হওয়া তিনটি জনমত সমীক্ষার ইঙ্গিত, তাঁকে বেশ খানিকটা পিছনে ফেলে দিয়েছেন তাঁর একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জো বাইডেন। একটি খবরের চ্যানেলকে সাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেও প্রায় বলেই ফেললেন যে, বাইডেনই প্রেসিডেন্ট হতে চলেছেন, কারণ দেশের কিছু মানুষ তাঁকে ভালবাসেন না।

সাক্ষাৎকারের শুরুটা হয়েছিল বাইডেনকে আক্রমণ করেই। অতিমারি মোকাবিলায় ট্রাম্প প্রশাসনের ব্যর্থতা এবং লকডাউনের জেরে আর্থিক মন্দা নিয়ে দেশের তাবড় সেলিব্রিটিরা পর্যন্ত মুখ খুলেছেন।

সেই সঙ্গে বর্ণবিদ্বেষ-বিরোধী আন্দোলনে ট্রাম্পের সেনা পাঠানোর হুমকিও ভাল চোখে নেননি অনেকেই। সাক্ষাৎকারটির ঠিক ২৪ ঘণ্টা আগে বাইডেনও প্রেসিডেন্টকে বিঁধে বলেছেন, ‘‘করোনাভাইরাস মোকাবিলায় ট্রাম্প শিশুদের মতো আচরণ করেছেন। মনে হচ্ছে ওঁকে ছাড়া আমাদের সকলের উপরেই প্রভাব ফেলেছে এই অতিমারি।’’

ডেমোক্র্যাট প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থীর এই বক্তব্যেরই প্রতিক্রিয়া জানতে চাওয়া হয়েছিল ট্রাম্পের কাছে। যার জবাবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট প্রথমে বাইডেনের এক গুচ্ছ সমালোচনা করেন। তার পরেই বলেন, ‘‘একটা লোক ভাল করে কথা পর্যন্ত বলতে পারে না।

অথচ উনিই আপনাদের পরবর্তী প্রেসিডেন্ট হতে চলেছেন। কারণ এ দেশেরই কিছু মানুষ আমায় ভালবাসেন না হয়তো।’’ তার পরেই তাঁর সংযোজন, ‘‘আমি আমার কাজটাই করছি।’’

বেশ কিছু সমীক্ষা আবার এ-ও বলছে, আমেরিকায় বসবাসকারী ভারতীয় বংশোদ্ভূতদের মধ্যে বাড়ছে বর্তমান প্রেসিডেন্টের জনপ্রিয়তা। মিশিগান, ফ্লরিডা, টেক্সাস, পেনসিলভ্যানিয়া, ভার্জিনিয়ার মতো প্রদেশে ৫০ শতাংশেরও বেশি ভারতীয় বংশোদ্ভূত চাইছেন, ট্রাম্পই ফের প্রেসিডেন্টের গদিতে বসুন।

অথচ আমেরিকায় বসবাসকারী ভারতীয় বংশোদ্ভূতদের মধ্যে ডেমোক্র্যাটদেরই সমর্থন করারই প্রবণতা ছিল এত দিন। হোয়াইট হাউসের ডেপুটি প্রেস সচিব সারা ম্যাথিউস সাংবাদিকদের জানান, ভারতীয় বংশোদ্ভূতদের এমন সমর্থন পেয়ে প্রেসিডেন্ট অভিভূত। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য, প্রথম থেকেই ভারতের সঙ্গে

সুসম্পর্ক গড়ে তোলায় জোর দেন ট্রাম্প। তাই নরেন্দ্র মোদী আমেরিকা সফরে এলে হাউডি মোদী ও ট্রাম্প ভারতে গেলে কেমছো ট্রাম্পের আয়োজন করা হয়েছে। সারা বলেছেন, ‘‘আমাদের অর্থনীতি, সংস্কৃতিতে ভারতীয়-মার্কিন নাগরিকদের অবদানকে প্রেসিডেন্ট গুরুত্ব দেন।’’

এ দিকে, মেক্সিকো সীমান্তে দেওয়াল তোলার জন্য মার্কিন প্রতিরক্ষা দফতরের অর্থ খরচ করার অধিকার ট্রাম্প প্রশাসনের নেই বলে রায় দিয়েছে মার্কিন ফেডারেল আপিল আদালত।